
Katha24.com I মোহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি
সব সাধকের বড় সাধক আমার দেশের চাষা।
দেশ মাতারই মুক্তিকামী, দেশের সে যে আশা।
রাজিয়া খাতুন চৌধুরাণী রচিত বিখ্যাত 'চাষী' কবিতার অংশ, যেখানে কৃষককে দেশের সবচেয়ে বড় সাধক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, এবং যারা দেশের মানুষের জন্য খাদ্য উৎপাদনে ব্যাস্ত থাকেন। আবার এই কবিতায় বুঝানো হয়েছে আমাদের দেশের কৃষককে কেউ গুরুত্ব দেয় না। কৃষক তার নিজস্ব কায়দায় দেশ-দশের প্রয়োজনে নিজেকে বিলিয়ে দেয়। কখনও তার সম্মানের কথা চিন্তা করে না। এগিয়ে যায় নিজস্ব গতিতে মাটি খুঁড়ে খাদ্যের সন্ধানে।
আর সেই গতানুগতিক কাজের নিয়মে তীব্র শৈত্য প্রবাহকে উপেক্ষা করে কাজে নেমে পড়েনছেন মাগুরার মহম্মদপুরের কৃষক। থেমে নেই তাদের দৈনন্দিন কাজ। কৃষক এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন বোরো ইরি ধান আবাদে। মৌসুমের অনেকটা আগেই এখানে শুরু হয়েছে বোরো ইরি ধানের আবাদ। মাঠে কৃষকের লাঙ্গলের ফলা মাটি খুঁড়ে তৈরি করছে ধান আবাদ উপযোগী জমি। অধিকাংশ কৃষক প্রচন্ড শীতকে উপেক্ষা করে কাক ডাকা ভোরে ছুটে যান মাঠে। কেউ বীজতলা থেকে চারা তুলছেন, কেউ কলের লাঙ্গল দিয়ে জমি তৈরি করছেন। আবার কেউ সেই চারা ধান পরম মমতায় মাটির বুকে একটি একটি করে বপন করে চলেছেন। কৃষকের কর্মচাঞ্চলে জেগে উঠেছে ফসলের মাঠ।
এবছর শীত মৌসুমের প্রথম শৈত্য প্রবাহ চলছে দেশব্যাপি। দিনের বেলায় সূর্যের মুখ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। বন্য পশু-পাখি থেকে শুরু করে গৃহপালিত পশুর এই হার কাঁপানো শীতে জবুথবু অবস্থা। প্রয়োজন ছাড়া এই শীতের মধ্যে সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হতে চাচ্ছে না! শীত যেন তার কামড় বসাচ্ছে দ্বিগুণ তেজ নিয়ে।
কিন্তু প্রচন্ড এই শীতেও থেমে নেই কৃষকদের দৈনন্দিন কাজ। কৃষকেরা আগামীর খাদ্যের জুগান দিতে বাড়ি ছেড়ে কাদা-পানির মধ্যে সামান্য পোশাক গায়ে দিয়ে কাজ করে চলেছেন অবলীলায়। যেন এই শীতকে পরাস্ত করে তারা গভীর মমতার বন্ধনে মাটির সাথে আবদ্ধ হয়েছেন। মানবের খাদ্য চাহিদা পূরনার্থে তাদের এই হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম।
ছবিটি তোলা উপজেলা সদরের ঘোপ বাঁওড় থেকে। এই অঞ্চলের কৃষকরা মাত্র একটি বারের জন্য চাষাবাদ করতে পারেন। বর্ষা মৌসুমে বিতৃণ অঞ্চল পানিতে তলিয়ে যায়। তখন বাপ-দাদার ফসলি জমি থেকে কোনো উপকার পান না তারা। এজন্য তাদের সারা বছরের খাদ্যের যোগান আসে এখান থেকে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কৃষকরা আগামী খাদ্য উৎপাদনের কাজে ব্যাস্ত সময় পার করছেন কৃষিক্ষেতে।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।